ডুয়ার্স, আমার প্রিয় ডুয়ার্স - গৌতম চক্রবর্তী
দুটি পাতা একটি কুঁড়ির সবুজ গালিচা আর নীল পাহাড়ের ডুয়ার্সের ডাক চুম্বকের মতন আকর্ষণ করে প্রতিমুহুর্তে। হিমালয়ের টানে একবার যে মজেছে, সে যেমন বারবার হিমালয়ের পথে ছুটে যায়, ডুয়ার্সের ডাক তেমনই মোহময়ী। এ যেন নিশি-ডাকের মতন।ডুয়ার্স ভ্রমণ অনবদ্য ছন্দে আমাকে উজ্জীবিত করে। বার বার মনে হয় স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে যেন আরও নতুন কিছুর সন্ধান পাচ্ছি। অনাবিল আনন্দ আর সুখে পুলকিত হই যতবার ডুয়ার্সে আসি। অজানাকে জানার আগ্রহ আর অদেখাকে দেখার তীব্র আকাঙ্খা পূরণে চূড়ান্তভাবে মুখিয়ে থাকি। হিমালয়ের পাদদেশে পশ্চিম বাংলার উত্তর সীমান্তে তরাই অঞ্চল ডুয়ার্স। পাহাড়, নদী, ঝরনা, গভীর অরণ্য ও সবুজে সম্ম্মোহিত দিগন্ত বিস্তৃত চা-বাগানগুলি ডুয়ার্সের বৈশিষ্ট্য। ডুয়ার্সে রয়েছে ভেষজ গুল্মের অফুরন্ত ভাণ্ডার। সর্পগন্ধা, শতমূলী, কালোমেঘ, পিপুল, আমলকী, বহেরা, রিঠার একচ্ছত্র সাম্রাজ্য। বৈচিত্র্যময় ডুয়ার্সের নীল আকাশে সবুজ রঙের বনটিয়ার ঝাঁক। এককালের পাণ্ডববর্জিত দেশ, কালাজ্বর, ম্যালেরিয়ার ডিপো ছিল ডুয়ার্স। সন্ধ্যা হলেই বাঘের ডাক। বৃষ্টি! বৃষ্টি! বৃষ্টি। দিনের বেলাতেও পাগল করে দিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ভাষায় বর্ষায় ডুয়ার্স সত্যিই পর্যটনময়। রবীন্দ্রনাথ যদি ডুয়ার্সের বর্ষা কখনো দেখতেন, তবে রাবীন্দ্রিক সুর নিশ্চয়ই এতটা মোলায়েম হত না। মেঘমল্লার পরিণত হত মেঘমুষলে। বস্তুত ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকার পশ্চাদভূমি বা ব্যাকগ্রাউন্ড বলা যায় ভুটান পাহাড়। আয়তনে ডুয়ার্স ৪,৭৫০ বর্গ কিলোমিটার। ১,২৫০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে নিবিড় অরণ্য। বেশিরভাগ চা-বাগান তিস্তার পশ্চিম দিকে, পূর্ব দিকে অরণ্য-ভূভাগ। ১৫২ টির ওপর চা-বাগিচা ডুয়ার্সের বুকে এবং বেশিরভাগ অঞ্চলটাই পড়েছে জলপাইগুড়ি জেলায়। ডুয়ার্স শব্দটির অর্থ দরজা। ভুটান পাহাড় থেকে ১৮ টি দরজা পাহাড়ি পাকদণ্ডি পথ বেয়ে পশ্চিমবঙ্গের সমতলে মিশেছে। ১১ টি পশ্চিমবঙ্গে, বাকি ৭টি অসমে। অতীতে ওসব পথে ভুটানিজরা সমতলে ঢুকে ব্যবসা-বাণিজ্য, সাম্রাজ্য বিস্তার করত। রেনির ‘স্টোরি অফ দ্য ডুয়ার্স ওয়ার’ (১৮৬৬) থেকে প্রচুর তথ্য পাওয়া যায়।
ডুয়ার্স ভ্রমণে অরণ্য, চা-বাগান আর বন্য পশুপাখি ও আদিবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার ঘটনা আমাকে পৃথিবীর অপার সৌন্দর্যকে অনুভব করতে সাহায্য করে। অরণ্যের মধ্য দিয়ে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক আর নানা রকমের পশুপাখিদের গানে গানে কেটে যায় সময়। ডুয়ার্সের পথে যে সকল চা-বাগান আর অরণ্য দেখতে পাওয়া যায় তা যেন ছবির মত। চা বাগান পত্তনের পর থেকেই ডুয়ার্সের আমূল পরিবর্তন হতে থাকে। স্থানীয় মঙ্গোলীয় জাতির জনগণ পরের অধীনে শ্রমিক হিসেবে চা বাগানে কাজ করার পক্ষপাতী ছিল না। অনুরূপ পরিস্থিতিতে চা শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। চা-বাগানের পত্তন আর ভুটান তিব্বতের সঙ্গে ইংরেজদের বাণিজ্যের সম্ভাবনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর চা বাগান অনুসারী কলকারখানায় কর্মসংস্থান হয়। এদের সাথে মিশেছে দেশবিভাগের পর আগত উদ্বাস্তু বাংলা ভাষাভাষী মানুষ। বিভিন্ন স্থান থেকে এসে তারা আপন করে নিয়েছে উত্তরের মৃত্তিকাকে। পার্থক্য শুধু একটাই কাগুজে ছবিগুলো স্থির। আর অরণ্যের দৃশ্যাবলী প্রকৃতির সান্নিধ্যে আপন মনে খেলা করে। দূর্দান্ত ভাল লাগা কাজ করে। মনটা মুহূর্তেই উজ্জীবিত হয়ে যায়। অরণ্যের মধ্য দিয়ে রাস্তায় কখনও হাতি, বানর কিংবা পশু পাখিদের অবাধ বিচরণ দেখে হৃদয়ের সবকটা জানালা খুলে যায়। ডুয়ার্সের এই অসাধারণ দৃশ্য না দেখলে ডুয়ার্সকে চেনা মুশকিল। কোথাও হাতির পাল, কোথাও বাইসন কিংবা গন্ডারদের অবাধ চলাফেরা দেখতে দেখতে কখন যে চলে আসি ময়ুরের দেশে বুঝতেই পারি না। এখানকার ঘন অরণ্যে বন্য পশুপাখি দেখার জন্য কখনও ওয়াচ টাওয়ারে, আবার কখনও খোলা জিপে দাঁড়িয়ে কল্পনার জগতে অবগাহন করি। এই অরণ্যে এসে আলো আঁধারির খেলায় পাখিদের কলরবে কেটে যায় কত সময়। কত রকমের ফুল-ফল আর সবুজের সমাহার বলে শেষ করা যাবে না। উত্তরের সংস্কৃতিতে মাটির সোঁদা গন্ধ। বহু বৈচিত্র্যে বর্ণময় ডুয়ার্স যে ছবির মতই সুন্দর।
আদিম জনজাতির শান্তিপূর্ণ সহ নিবাসস্থল রূপে পরিগণিত ডুয়ার্স নানা সংস্কৃতির পারস্পরিক আদান-প্রদান এবং মহামিলনের পুণ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। মেচ, টোটো, ওঁরাও, মুন্ডা, ডুকপা, রাভারা কেউ বা ঘন শ্যাম অবার কেউ বা ফর্সা। বেশভূষা ভিন্নতর। সব মিলিয়ে ডুয়ার্স যেন সহানুভূতি, প্রেম, সহিষ্ণুতা এবং স্বার্থত্যাগের জ্বলন্ত নিদর্শন। বহুকাল আগে থেকেই এই অঞ্চলে নারীরা স্বাধীন বৈদেশিয়া বা পরদেশি বন্ধুর প্রতি তাদের প্রেম নিবেদনে নিঃসঙ্কোচ। তাদের চোখে পরদেশি পুরুষেরা রসিক এবং যে কোন নবাগত ভিনদেশী মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপনে আগ্রহী ছিল তারা। গ্রামের সবুজ আঁচলের আদিগন্ত প্রকৃতি, ধানখেত, খালবিল, সরু আল, হলুদ সরষে ফুলের মেলা, সপ্তাহের হাটবার, হাটের মিষ্টি, গজা, জিলিপি, তেলেভাজা, জ্যান্ত ছোট মাছ নিয়েই ডুয়ার্স তথা জলপাইগুড়ির গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ। শ্রম নির্ভর জীবনে পরতে পরতে নারী ও পুরুষের সমান অবদান ছিল। নারী পুরুষ নির্বিশেষে এক সঙ্গেই রাত জেগে জীবন যুদ্ধে সামিল হয়েছে উত্তরের ভূমিপুত্ররা। ছোট ছোট সুখ দু:খের মধ্যেই সহস্রাব্দের চেনা রাস্তায় ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে যেতে থাকে বাবা মহাকালেরা। গ্রাম্য ভোকাবুলারিতে ঢুকে পড়ে কালাশনিকভ। ফলিডল খেয়ে নদী থেকে লোপাট হয়ে যায় মহাশোল, চা বাগানে আর সেনা ছাউনিতে ধরা পড়ে আনস্মার্ট চিতা, তিস্তার শুশুক কোথায় যেন পাড়ি জমায়, লোকগানে ঢুকে পড়ে সিন্থেসাইসার। তবুও জীবন্ত লোক ইতিহাস তৈরী হতে থাকে জল, জঙ্গল, জমি আর ম্যালেরিয়াকে পোষ মানাতে মানাতে বর্ষা ভেজা রাতে কাথার আরামে ডুবে যেতে যেতে, শীত-সকালের রোদ গায়ে মেখে আমাদের বেঁচে থাকাকে লিপিবদ্ধ করতে করতে। তাই এই ভূমির জীবন চর্চার অশরীরী ছাপ শৈব সংস্কৃতি হয়ে নিয়তির মত নির্ভূলভাবে এঁটে বসেছে গোটা বঙ্গদেশের শৈবচর্চায়। তাই এই টান, এই অলৌকিক ভালবাসা কখনো শেষ হয় না।
পর্যটনের অসাধারণ উপাদান ছড়িয়ে আছে তরাই এবং ডুয়ার্সে। তিস্তা, লিস, ঘীস, চেল, কুমলাই, মাল, নেওড়া, ধরলা নদীধৌত অঞ্চল। বর্ষাকালে অসংখ্য ঝোরা থেকে জলধারা সৃষ্টি হয়। উত্তরে ভুটান পাহাড়। পরিষ্কার আবহাওয়ায় উত্তর-পশ্চিমে উঁকি দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘার তুষারমৌলি শীর্ষ শৃঙ্গ। পার্বত্য অঞ্চল, উচ্চভূমি এবং সমতলভূমিতে সবুজের সমারোহ। সবুজ চা বাগিচার বিস্তার, সমতলে ধানের ক্ষেত ও সুপারি গাছের সারি, পাহাড়ের গায়ে ধাপচাষ এবং ঘন অরণ্যে শাল, সেগুন, শিশু বৃক্ষের সারি। প্রবল বর্ষা এবং প্রবল শীত ছিল এই অঞ্চলের প্রধান ঋতু। উত্তরের অরণ্যের সবুজের ফাঁক দিয়ে মেঘের কেশর ওড়ে পাহাড়ের গ্রীবায়, জঙ্ঘায়, স্কন্ধে। পাহাড় অদৃশ্য হয়ে যায়। ঠিক তখনই ডামডিম থেকে সামসিং, আংড়াভাসা থেকে আলাইকুড়ি, তোড়লপাড়া থেকে তুরতুরি, ভোটপট্টি থেকে ভুটানঘাট, রাঙ্গালিবাজনা থেকে রাজাভাতখাওয়া, হান্টুপাড়া, গারোপাড়া, বক্সা পাহাড়, খট্টিমারির জঙ্গলে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাওয়া জনজাতি তাদের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি নিয়ে আর হারিয়ে যাওয়া জনপদ তাদের ঐতিহ্য নিয়ে নিমেষে হুংকার দিয়ে ওঠে। ঠিক তখনি সংকোশের বোহেমিয়ান তরঙ্গ ছলছল করে বয়ে যায়। নিউল্যান্ডস চা বাগানে বর্ষার চুপ দুপুরে পাতাতোলা মেয়েরা বস্তিতে ফিরে গেলে শেড ট্রি থেকে যখন টুপটাপ বৃষ্টি ঝড়ে, তখন দিগন্তজোড়া নিউল্যান্ডস এর দূরে দূরে কাঠের বাড়িগুলির সামনের ক্ষেতে বিপজ্জনক কালচে সবুজ এবং দূর্ভেদ্য অরণ্য থেকে এ রকমই কোন এক বৃষ্টির দুপুরে হরিণের ঝাঁক এসে কুমড়ো খেয়ে যায়। রাতে এসে হাতি খড়ের ঘরের থাম নাড়ায়। সেই মন উদাস করা সুর, সেই গান আজ আধুনিকতার ছোঁয়ায় পাল্টেছে এবং পাল্টাচ্ছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্যামেরায় জীবন্ত হয়ে ওঠে ডুয়ার্সে। পলাশবাড়ী চা বাগান হয়ে ভুটানের প্রান্তিক শহরে সেই কোনকালে বৈজয়ন্তীমালা এবং অশোককুমারকে নিয়ে শুটিং হয়েছিল হিন্দি ছবি তপন সিংহের “হাটে বাজারের” যার লোকেশন ছিল উত্তরবঙ্গ। তারপর থেকে দীর্ঘ সময় জলপাইগুড়ি জেলায় কোন শুটিং হয়নি। দীলিপকুমার, সায়রা বানুর “সাগিনা মাহাতো” সেলুলয়েডে বন্দী করেছিল উত্তরবঙ্গকে। উত্তমকুমারের “ধনরাজ তামাং” বা অমিতাভ বচ্চনের “অনুসন্ধান” দেশ বিদেশের মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো তরাই এবং ডুয়ার্সের সঙ্গে। পরবর্তীকালে উত্তরের মাটির সোঁদা গন্ধ বুকে নিয়ে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের “উত্তরাধিকার” উপন্যাসটি দূরদর্শনের জন্য সিরিয়াল হিসাবে শুটিং হয় উত্তরবঙ্গে। উত্তরাধিকারের প্রথম পর্বের প্রথম দৃশ্যে ডায়না নদীর ধারে দাদু নাতির হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য ছিল। ওই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে “কালপুরুষ” এবং “সাতকাহন” সিরিয়ালের শুটিং হয়েছিল উত্তরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যকে সাথী করে। পরবর্তীকালে অপর্ণা সেন, রাজা সেন, গৌতম ঘোষেরা আবার শুটিং করার ফলে ছিন্নমূল জননীর মতই ডুয়ার্সের বনজ্যোৎস্নায় ভারতীয় আর্ট ফিল্ম তার কাঁচামাল খুঁজে পায়। গরুমারা বনবাংলোয় দেশ দেশান্তরী পাখির কুজনে “আবার অরণ্যে” প্রাণ ফিরে পায় । গরুমারার আলো-আঁধারিতে “মিস্টার এন্ড মিসেস আয়ার” ডুয়ার্সের মায়াময় সৌন্দর্য্যে ডুবে যায়। তিস্তার নীলচে-সবুজ জলধারা, মূর্তির পারে রংবেরঙের প্রজাপতির ঝাঁক, অপর পারে হরিণ-হরিণীর চকিত চলাচল, জোৎস্না রাতের মায়াময়ী তিস্তা ডুয়ার্সের অপার সৌন্দর্য রচনা করে যা বর্ণনায় বুঝানো খুবই কষ্টকর । মালবাজার, মূর্তি থেকে চালসা, মেটেলি, লাটাগুড়ির অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্যামেরায় জীবন্ত হয়ে ওঠে । হাজার হাজার মানুষ এই ভার্জিন বিউটিকে উপভোগ করতে উত্তরের মাটিতে আসতে শুরু করেন প্রতিবছরই।
আমরা রোজ কোন না কোন
সময় সূর্যাস্ত দেখি। কিন্তু বছরের কোনও গোধুলির সূর্য ডুবে যাওয়ার রঙ অন্য কোনও দিনের মত হয় না। প্রতিদিনের রঙের খেলা আলাদা আলাদা। এটাই আমাদের উত্তরের শেষ বেলার আকাশ। প্রকৃতি অসাধারণ
এক পেন্টার এখানে। সূর্যাস্তের আকাশ দেখার সবচেয়ে ভাল জায়গাটি আবিষ্কার করেছিলাম ডুয়ার্সে। গয়েরকাটা চা-বাগানের প্রান্তে গিয়ে এই আকাশ দেখেছিলাম। বাগান শেষ, তারপর একফালি নদী,
উপত্যকার মত অনেকটা সবুজ জমি,
তার ওপারে মরাঘাট বন। বনের মাথার আকাশ অন্যরকম হয়ে যায় যখন ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলায়। একদিনের সঙ্গে অন্য দিনের মিল থাকে না। উজ্জ্বল থেকে শান্ত, তারপর ক্রমে ম্লান আরও ম্লান। ডুয়ার্সের আকাশ একসময় বিষন্নতা আঁকতে আঁকতে চলে যায়। ডুয়ার্সের গোধূলি মনের সমস্ত মলিনতা ধূইয়ে দেয়। রাত্রি গভীর হয়। ঝিঁঝিঁ পোকার
ডাক এর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ডুয়ার্সের আরেক রূপ। পরিবর্তনশীল জগতে উদারমনা ডুয়ার্স কাউকে ফিরিয়ে দেয়নি। জাতি-ধর্ম-বর্ণ
নির্বিশেষে যারা এসেছে তাদের সকলকেই জায়গা করে দিয়েছে। এপারের আদি অধিবাসী রাজবংশী এবং অন্যান্য জাতি উপজাতিরা উদ্বাস্তূদের আলিঙ্গন করলেন সহমর্মীতা, সম্প্রীতি এবং সমাজবদ্ধতার উষ্ণ আন্তরিকতায়। সমাজবদ্ধতার এই পরম্পরা এবং ধারাবাহিকতা আজও অমলিন। জলপাইগুড়ি জেলা সহ উত্তরবঙ্গের মানুষের সহজ সরল সাবলীল এবং আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ জীবন যাপনের পরিপূর্ণ ছবি পাওয়া যায় উত্তরের আনাচে কানাচে।
- - -





No comments