ডুয়ার্স : সংস্কৃতি – বহুত্ব – পরিচয়ের এক নন্দনপ্রান্তর -অশোক ভট্টাচার্য্য
-অশোক ভট্টাচার্য্য
উত্তরবঙ্গের অভূতপূর্ব সৌন্দর্যমণ্ডিত ভূখণ্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ডুয়ার্স। শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘দুয়ার’—অর্থাৎ প্রবেশদ্বার। হিমালয়ের পাদদেশে বিস্তৃত এই ভূখণ্ড যেন উত্তর-পূর্ব ভারতের বাস্তব একটি সাংস্কৃতিক দরজা। প্রকৃতির অবারিত সুশোভন পরিবেশ, চা-বাগানের সবুজ বিস্তার, পাহাড়ি নদীর স্রোত আর নানান জনগোষ্ঠীর সহাবস্থানে ডুয়ার্স আজ এক অনন্য শিল্প-সংস্কৃতির সমবেত উদ্যান।
এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য—বহু ভাষা, বহু মত, বহু সংস্কৃতি এবং বহু রীতির মহামিলন। নেপালি, রাজবংশী, বাঙালি, আদিবাসী, ভুটিয়া, মারোয়াড়ি—প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী যে নিজ নিজ জীবনের রীতি নিয়ে এখানে সমান মর্যাদায় সহাবস্থান করছে—সেই বহুত্বের ভিতরেই ডুয়ার্সের স্বাতন্ত্র্য নিহিত। জীবনযাপনের ধরন, পোশাক, গান, বাদ্য, নৃত্য, অনুষ্ঠান—এই অঞ্চলকে এক অনির্বচনীয় শিল্পসমৃদ্ধ সমাজে পরিণত করেছে।
এই অঞ্চলের লোকসঙ্গীত, লোকনৃত্যের ভিতর দিয়ে শ্রমজীবী মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও আনন্দের বোধ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। ঝুমুর নৃত্য, ঢোল-মাদলের তালে আদিবাসী নৃত্য, চা-বাগানের শ্রমজীবী সমাজের সৃষ্ট নানাক্ষুদ্র সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো আজও ডুয়ার্সের প্রাচীন শিকড়কে অটুট করে রেখেছে। ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব—দুর্গাপূজা, তিহার, দশঁই, কারাম, সারহুল, বাঁদনা—প্রত্যেকটি পালন হয় সম্মান, অংশগ্রহণ ও আন্তরিকতার মেলবন্ধনে।
এই সাংস্কৃতিক সহাবস্থানই ডুয়ার্সকে ভারতীয় বহুত্ববাদ ও মানবিক ঐক্যের এক দীপ্ত প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শিল্প, সাহিত্য, লোকঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধ—সব মিলিয়ে ডুয়ার্স এক চিরজাগরুক মননের ক্ষেত্র।
পরিশেষে, এই ডুয়ার্স অঞ্চলের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশকে বহুমাত্রিক আলোচনার পথে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিন্নাগুরি ডুয়ার্স ডে সেলিব্রেশন সোসাইটির উদ্যোগে আগামী ১৪ই জানুয়ারী, ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলার বিন্নাগুরি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে “ডুয়ার্স ডে” উৎসব। এই উৎসব ডুয়ার্সের ঐতিহ্য, শক্তি, বৈচিত্র্য ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও বৃহত্তর পরিসরে প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত সৃষ্টি করবে—এ প্রত্যাশায় আমরা আশাবাদী।
এই মহোৎসব সার্বিক সাফল্যে সমুজ্জ্বল হোক—এই আমাদের আন্তরিক শুভকামনা।
এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য—বহু ভাষা, বহু মত, বহু সংস্কৃতি এবং বহু রীতির মহামিলন। নেপালি, রাজবংশী, বাঙালি, আদিবাসী, ভুটিয়া, মারোয়াড়ি—প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী যে নিজ নিজ জীবনের রীতি নিয়ে এখানে সমান মর্যাদায় সহাবস্থান করছে—সেই বহুত্বের ভিতরেই ডুয়ার্সের স্বাতন্ত্র্য নিহিত। জীবনযাপনের ধরন, পোশাক, গান, বাদ্য, নৃত্য, অনুষ্ঠান—এই অঞ্চলকে এক অনির্বচনীয় শিল্পসমৃদ্ধ সমাজে পরিণত করেছে।
এই অঞ্চলের লোকসঙ্গীত, লোকনৃত্যের ভিতর দিয়ে শ্রমজীবী মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও আনন্দের বোধ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। ঝুমুর নৃত্য, ঢোল-মাদলের তালে আদিবাসী নৃত্য, চা-বাগানের শ্রমজীবী সমাজের সৃষ্ট নানাক্ষুদ্র সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো আজও ডুয়ার্সের প্রাচীন শিকড়কে অটুট করে রেখেছে। ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব—দুর্গাপূজা, তিহার, দশঁই, কারাম, সারহুল, বাঁদনা—প্রত্যেকটি পালন হয় সম্মান, অংশগ্রহণ ও আন্তরিকতার মেলবন্ধনে।
এই সাংস্কৃতিক সহাবস্থানই ডুয়ার্সকে ভারতীয় বহুত্ববাদ ও মানবিক ঐক্যের এক দীপ্ত প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শিল্প, সাহিত্য, লোকঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধ—সব মিলিয়ে ডুয়ার্স এক চিরজাগরুক মননের ক্ষেত্র।
পরিশেষে, এই ডুয়ার্স অঞ্চলের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশকে বহুমাত্রিক আলোচনার পথে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিন্নাগুরি ডুয়ার্স ডে সেলিব্রেশন সোসাইটির উদ্যোগে আগামী ১৪ই জানুয়ারী, ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলার বিন্নাগুরি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে “ডুয়ার্স ডে” উৎসব। এই উৎসব ডুয়ার্সের ঐতিহ্য, শক্তি, বৈচিত্র্য ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও বৃহত্তর পরিসরে প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত সৃষ্টি করবে—এ প্রত্যাশায় আমরা আশাবাদী।
এই মহোৎসব সার্বিক সাফল্যে সমুজ্জ্বল হোক—এই আমাদের আন্তরিক শুভকামনা।
অশোক ভট্টাচার্য্য
অধ্যক্ষ, উত্তরবঙ্গ চারুকলা মহাবিদ্যালয়,
অধ্যক্ষ, উত্তরবঙ্গ চারুকলা মহাবিদ্যালয়,
আলিপুরদুয়ার জেলা। মোবাইল - ৯৭৩৩০৭৯৩০১

No comments